Skip to main content
Participant
September 8, 2026
Open for Voting

News Script

  • September 8, 2026
  • 0 replies
  • 3 views

অ্যাঙ্কর ইনট্রো

 

টেকনাফে মাদক ও মানব পাচারের কথিত অর্থের প্রবাহ নিয়ন্ত্রণে নতুন করে সক্রিয় হয়েছে একটি হুন্ডি নেটওয়ার্ক—এমন অভিযোগ উঠেছে।

 

অভিযোগ, সীমান্তের ওপার থেকে আসা অর্থ আর পাচারের টাকা এখন সরাসরি হাতে হাতে নয়।

ব্যবহার হচ্ছে ব্যাংক হিসাব, বিকাশ-নগদসহ নানা আর্থিক চ্যানেল।

 

কারা নিয়ন্ত্রণ করছে এই নেটওয়ার্ক?

কোথায় যাচ্ছে টাকা?

আর বৈধ লেনদেনের আড়ালে কীভাবে চলছে কথিত এই অর্থের প্রবাহ?

 

অনুসন্ধানে সামনে এসেছে কয়েকজনের নাম।

 

ভয়েস-ওভার

 

টেকনাফ।

সীমান্তের এই জনপদে মাদক ও মানব পাচারের অভিযোগ নতুন নয়।

 

কিন্তু এবার অভিযোগের কেন্দ্রে—অর্থের পথ।

 

স্থানীয় কয়েকটি সূত্রের দাবি, টেকনাফ পৌরসভার ফয়সাল প্লাজা, অলিয়াবাদ এবং দক্ষিণ জালিয়াপাড়ার কিছু ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্র করে সক্রিয় রয়েছে কথিত একটি হুন্ডি নেটওয়ার্ক।

 

অভিযোগ, মিয়ানমার থেকে আসা মাদকের অর্থ কিংবা মানব পাচারের মাধ্যমে আদায় করা টাকা—সীমান্ত পেরিয়ে সরাসরি পাঠানো হচ্ছে না।

 

ব্যবহার করা হচ্ছে ব্যক্তিগত ও সন্দেহজনক ব্যাংক হিসাব।

ব্যবহার করা হচ্ছে মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসও।

 

ফলে প্রশ্ন উঠছে—

টাকার আসল উৎস কোথায়?

আর শেষ গন্তব্যই বা কোথায়?

 

গ্রাফিক্স: কথিত নেটওয়ার্ক

 

স্থানীয়ভাবে আলোচিত এই নেটওয়ার্কে আটজনের নাম এসেছে।

 

জাবের।

আবু সিদ্দিক।

মোহাম্মদ নূর।

তৌহিদ।

রাকিব।

রুবেলসহ আরও কয়েকজন।

 

অভিযোগ অনুযায়ী, তাদের কেউ অর্থ সমন্বয় করেন।

কেউ ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করেন।

আবার কেউ মাঠপর্যায়ে অর্থ সংগ্রহ ও বণ্টনের সঙ্গে যুক্ত।

 

তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা এখনো নিশ্চিত নয়।

 

ভয়েস-ওভার

 

অভিযোগের তালিকায় থাকা কয়েকজনের বিরুদ্ধে মিয়ানমারের নাগরিকত্ব, বাংলাদেশি পরিচয়পত্র ব্যবহারের অনিয়ম এবং বড় অঙ্কের অর্থ লেনদেনের মতো গুরুতর দাবিও করা হয়েছে।

 

আবার কারও বিরুদ্ধে একাধিক ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করে সন্দেহজনক লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে।

 

রাকিব ও রুবেলকে নিয়েও রয়েছে অর্থ স্থানান্তর এবং ক্যাশ-আউটের অভিযোগ।

 

কিন্তু এসব লেনদেনের প্রকৃত উদ্দেশ্য কী—তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজন আর্থিক নথি ও তদন্ত।

 

ভয়েস-ওভার — টোন আরও নিচু, ধীর

 

আরও গুরুতর একটি অভিযোগও সামনে এসেছে।

 

কথিত এই নেটওয়ার্কের কোনো সহযোগী গ্রেপ্তার হলে—অর্থের প্রভাব খাটিয়ে তাকে ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়।

 

অভিযোগটি সত্য হলে, এটি শুধু হুন্ডির প্রশ্ন নয়।

 

তাহলে প্রশ্ন উঠবে—

অবৈধ অর্থ কি অপরাধীদের সুরক্ষার হাতিয়ার হিসেবেও ব্যবহৃত হচ্ছে?

 

এর উত্তর মিলতে পারে কেবল নিরপেক্ষ তদন্তে।

 

বাইট — শাহাদাত হোসেন

 

“টেকনাফে অপহরণ, মাদক ও অনলাইন জুয়ার পাশাপাশি নতুন করে হুন্ডি ব্যবসা জমজমাট হয়ে উঠেছে। সীমান্তবর্তী এলাকায় এই অবৈধ অর্থ লেনদেন রোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অতি দ্রুত জড়িতদের শনাক্ত করে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে।”

 

ভয়েস-ওভার

 

তবে অভিযুক্তরা এসব অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছেন।

 

তাদের দাবি—তারা বৈধ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত।

একটি মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে।

 

এখন তাই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—

কার দাবি সত্য?

 

কথিত হুন্ডি নেটওয়ার্কের অভিযোগ, নাকি অভিযুক্তদের বক্তব্য?

 

ক্লোজিং

 

টেকনাফে মাদক বা মানব পাচার বন্ধে শুধু সীমান্তে অভিযান যথেষ্ট নয়—বলছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

 

তাদের মতে, নজর দিতে হবে টাকার গতিপথে।

 

কোন হিসাব থেকে টাকা যাচ্ছে?

কার হিসাবে জমা হচ্ছে?

কতবার হাতবদল হচ্ছে?

আর শেষ পর্যন্ত কোথায় পৌঁছাচ্ছে সেই অর্থ?

 

এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে প্রয়োজন বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট—বিএফআইইউ, বাংলাদেশ ব্যাংক, গোয়েন্দা সংস্থা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত তদন্ত।

 

কারণ, মাদকের চালান ধরা পড়লে অপরাধী ধরা যেতে পারে।

 

কিন্তু—

টাকার পথ বন্ধ করা গেলে, বন্ধ হতে পারে পুরো নেটওয়ার্কের অর্থনৈতিক ভিত্তি।

 

টেকনাফে এখন অপেক্ষা—

এই কথিত হুন্ডি নেটওয়ার্কের আসল চিত্র কবে সামনে আসে।